ভারতের উত্তর প্রদেশের ফতেহপুরে ২৪ বছর বয়সী এক তরুণকে গত ৪০ দিনের মধ্যে অন্তত সাতবার সাপে কামড় দিয়েছে। ভুক্তভোগী ওই তরুণের নাম বিকাশ দুবে। খবর এনডিটিভি'র।
ফতেহপুর জেলার সৌরা গ্রামের বাসিন্দা বিকাশ দুবে। গত ২ জুন নিজের ঘরেই প্রথম সাপের কামড়ের শিকার হন তিনি। সবশেষ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার মামার বাড়িতে আবার তাকে সাপে কামড়ায়। খবর ইন্ডিয়ে টুডে’র।
বিকাশ দুবে সপ্তমবার সাপের কামড়ের শিকার হবার পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল।
প্রথমবার দুবেকে সাপে কামড়ানোর ঘটনাটি ঘটে গত ২ জুন। বাড়িতে বিছানা থেকে নামার পরই তাকে সাপে কামড় দেয়। দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয় তাকে। এরপর বাড়িতে আরও তিনবার সাপের কামড়ের শিকার হন তিনি।
চতুর্থবার সাপে কাটার পর বাড়িতে সাপের উপদ্রব বেড়েছে বলে দুবেকে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্বজনদের পরামর্শে তিনি বাড়ি ছেড়ে রাধানগরে তার ফুফুর বাড়িতে থাকতে শুরু করেন।
কিন্তু নিজের বাড়ি ছেড়েও রেহাই মেলেনি দুবের। আবার তাকে সাপে কামড় দেয়। এরপর চিকিৎসা শেষে দুবের বাবা-মা তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন।
এ ব্যাপারে সেখানের মেডিকেল কর্মকর্তা রাজিব নয়ন গিরি জানিয়েছেন, সাপের কামড় খাওয়া ওই তরুণ কর্তৃপক্ষের কাছে আর্থিক সাহায্য চেয়েছেন।
ভুক্তভোগী তরুণ অর্থের জন্য কাঁন্নাকাটি করেছেন। কারণ তিনি এরই মধ্যে চিকিৎসার জন্য অনেক অর্থ খরচ করে ফেলেছেন। ফলে তিনি এখন কর্তৃপক্ষের কাছে আর্থিক সাহায্য চান। এমন অবস্থায় গিরি তাকে সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন, যেখানে বিনামূল্যে অ্যান্টি ভেনম পাওয়া যায়।
বিকাশ ডুবের বাবা বলেছেন, `এটা খুবই আশ্চার্যজনক ঘটনা যে একজন ব্যক্তি প্রতি শনিবার একটি সাপের কামড় খাচ্ছেন।'
তিনি বলেন, ‘আমাদের এটি সত্যিকার অর্থেই এখন খতিয়ে দেখা দরকার তাকে যে সাপটি কামড়াচ্ছে, সেটা আদৌ সাপ কি না। তাকে প্রত্যেক শনিবার কামড় দেওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ও একদিনের মধ্যেই তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।’
প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা এ বিষয়ে আরও বলেছেন, ‘এ বিষয়টি তদন্তের জন্য তিনজন চিকিৎসকের সমন্বয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত শেষে এ ব্যাপারে মানুষকে সত্যিকারের তথ্য দেওয়া যাবে।’
কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, প্রত্যেকবার সাপে কামড়ানোর পর চিকিৎসায় তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।
নয়াশতাব্দী/জিএস
মন্তব্য করুন
আমার এলাকার সংবাদ