ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ৬ আশ্বিন ১৪৩১, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৬

অধ্যক্ষের সঙ্গে বিরোধ, অফিসের সিসিটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন 

প্রকাশনার সময়: ২৫ নভেম্বর ২০২২, ১৯:০২

মাদারীপুরের কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষের অফিস রুমের সিসিটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ দিকে এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। অপরদিকে সিসিটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্নের ঘটনা নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছেন অধ্যক্ষ।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মো. হাসানুল সিরাজীর সাথে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়, অধ্যক্ষের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ, প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক বিষয়াদির ক্ষেত্রে অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া, ননএমপিও শিক্ষকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ ও নতুন শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মীর গোলাম ফারুকের দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে গত ২১ নভেম্বর দুপুরে অধ্যক্ষের অফিস রুমের সিসিটিভির সংযোগ সভাপতি ও তার লোকজন বিচ্ছিন্ন করেছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছেন।

এ দিকে এ ঘটনা জানাজানি হলে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অপরদিকে সিসিটিভির সংযোগ বিছিন্নের ঘটনা নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিংকি সাহার কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী অধ্যক্ষ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন কলেজের শিক্ষক বলেন, আমরা এই কলেজে ২৮জন নন এমপিও শিক্ষক রয়েছি। এবং আমরা প্রায় ২০ মাস যাবৎ কলেজ থেকে কোন বেতন পাচ্ছি না। তাই আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।

নজরুল ইসলাম নামে একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, সভাপতি ও অধ্যক্ষের দ্বন্দ্বে দক্ষিণ অঞ্চলের এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বাচাতে আমরা এর সমাধান চাই।

ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপিত আবুল কালাম আজাদ বলেন, অধ্যক্ষের অফিস রুমের সিসিটিভির সংযোগ সভাপতি বিচ্ছিন্ন করেছেন বলে আমি জানতে পেরেছি । আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তবে আমরা খুব শীঘ্রই এ বিষয়টি নিয়ে বসবো।

অধ্যক্ষ মো. হাসানুল সিরাজী বলেন, আমি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিংকি সাহা ও কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদেরকে জানিয়েছি। তবে শিক্ষকদের বকেয়া বেতনের বিষয়ে তিনি জানান, কলেজে ব্যয় অনুয়ায়ী আয় নেই, তাই শিক্ষকদের বেতন বকেয়া রয়েছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান ও কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মীর গোলাম ফারুক বলেন, অধ্যক্ষের রুমের সিসিটিভির কোনো লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয় নাই। আসলে অধ্যক্ষ কলেজটি ধ্বংস করে দিতেছে।

এ ব্যাপরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিংকি সাহা বলেন, অধ্যক্ষের অফিস রুমের সিসিটিভির সংযোগ বিছিন্ন করার বিষয়টি আমাকে অধ্যক্ষ জানিয়েছেন। তবে কলেজের ম্যানেজিং কমিটির মিটিং ডেকে এ বিষয়টি দেখার জন্য বলে দিয়েছি। এবং আমি এ বিষয়টি জেলা প্রশাসক স্যারকে জানিয়েছি।

নয়াশতাব্দী/জেডএম

নয়া শতাব্দী ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার এলাকার সংবাদ