ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবৃদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন মো. কামরুজ্জামান। তার শরীরে লেগেছিল ৮টি গুলি এমনটাই দাবি পরিবারের সদস্যদের। কামরুজ্জামান দুই ছেলে ও এক মেয়ে মেয়ের বাবা। কামরুজ্জামান ঢাকার উত্তরায় ভাড়ায় প্রাইভেটকার চালাতেন। এখন তার তিন সন্তানের দায়িত্ব নিবে কে?
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার চর কামারিয়া গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী মো. আব্দুর রাজ্জাকের দ্বিতীয় ছেলে মো. কামরুজ্জামান। তার দশ বছর বয়সী বড় মেয়ের নাম জারিন, মেজো ছেলের নাম আতনান (৮) এবং ৫ মাস বয়সী ছোট ছেলের নাম গালিব আবরার।
কামরুজ্জামান পোল্যান্ড যাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকার উত্তরায় ভাড়ায় প্রাইভেটকার চালাতেন। এরই মাঝে দেশে আন্দোলন শুরু হলে গত ৪ আগস্ট তিনি উত্তরায় ছাত্রদের সাথে মিছিলে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিখোঁজ হন। এরপর গত ১৯ আগস্ট রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে গ্রামের বাড়িতে মরদেহ এনে গত ২০ আগস্ট পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
শুক্রবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে কামরুজ্জামানের পরিবার সর্ম্পকে জানতে চাইলে তার স্ত্রী শারমীন জাহান পপি (২৭) কান্নায় ভেঙে পড়েন।
তিনি বলেন, বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আমার স্বামী গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হওয়ার পর এখন আমি দিশেহারা। ছোট ছোট এই সন্তানদের নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব, কী করব। কে আমার সন্তানদের দায়িত্ব নেবে? আমার স্বামী দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন। তার শরীরে ৮টি গুলি লেগেছে। আমি চাই রাষ্ট্র বা সরকার আমার সন্তানদের দায়িত্ব নিক।
পপি আরও বলেন, একজন স্ত্রীর কাছে স্বামী হারানোর বেদনা কত কষ্টের, তা বলে বুঝানো যাবে না। তবে আমার সাত্ত্বনা স্বামী দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন।
পপির বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে নিখোঁজ হন কামরুজ্জামান। এরপর অনেক খোঁজ করেও তার কোন সন্ধান পাইনি। এ ঘটনার ১৬ দিন পর গত ১৯ আগস্ট পুলিশের মাধ্যমে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তার গুলিবিদ্ধ মরদেহ সন্ধান পাই। এ সময় তার মরদেহের মাথা ও শরীরে ৮টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ময়নাতদন্ত করে মরদেহ দাফন করা হয়েছে। আমরা চাই বাবাহারা এই এতিমদের পাশে দাঁড়াক সরকার।
নয়া শতাব্দী/এসআর
মন্তব্য করুন
আমার এলাকার সংবাদ