রাজশাহী দুর্গাপুর সিংগা বাজারে সড়কে আরসিসি ঢালাই কাজের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রাতের আঁধারে সড়কে আরসিসি ঢালাই কাজ করেছে। যা সকালে সেই সড়কের ওপরে যান চলাচল, হাট বসা ও পথচারীরা চলাচল করায় তা কাদায় পরিণত হয়।
এদিকে রাতের আঁধারে এমন ঢালাই কাজ করায় নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে আরসিসি ঢালাই সড়ক করা হয়েছে কিনা তা ক্ষতির দেখার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, নওগাঁর মুহাম্মদ আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ২৮ কোটি ৭৪ লাখ ৫হাজার ৭৪৫ টাকা চুক্তি মূল্যে দুর্গাপুর উপজেলার তিনটি সড়ক নির্মাণ ও বাজার এলাকায় আরসিসি টালাই কাজ শুরু করেন। পূর্বে সড়কের পিস ঢালাই কাজ শেষ হলেও শেষ হয়নি সিংগা বাজার এলাকায় আরসিসি ঢালাই কাজ। দুর্গাপুর সিংগা বাজারে সড়কের এক পাশ গত এক মাস আগে ঢালাই কাজ করা হয়। সেই ঢালাইয়ে অনিয়ম দেখা দেয়। ঢালাইয়ের পর সড়কটি টেকসইয়ের জন্য চার পাস বেঁধে পানি বন্দি করে রাখার নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। এমনকি কোনো প্রকার পানিরও ছেঁড়া ফোটাও পড়েনি।
এদিকে সেই সড়কের অপর পাশে শনিবার রাতে আবারও রাতের আঁধারে তড়িঘড়ি করে ঢালাই করা হয়। যা রোববার হাঁটবার হওয়ায় ঢালাইয়ের সঙ্গে সঙ্গে বাজারে লোকজন ও যানবহন চলাচল করায় কাদা হয়ে যায় পুরো ঢালাই সড়ক।
স্থানীয়রা বলছেন রোববার হাঁটবার যেনেও তারা ঢালাই করেছে। যার কারণে মানুষ ও জানবহন চলার কারণে পুরো সড়ক অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে। এর জন্য সংশ্লিষ্টরাই দায়ী।
ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন জানান, সড়ক ঢালাইয়ের আগে হুটহাট করে সড়কের দুই পাশে ইট গাথে। যা কোনো প্রকার পানি ব্যবহার না করেই। এর পর দেখি রাতের আঁধারে সড়কটি ঢালাই হয়ে গেল।
সিংগা হাটে পিঁয়াজ বিক্রি করতে আশা আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার হাটবার ভোরে পিঁয়াজ নিয়ে বাজারে আসি। এসে দেখি সড়কে কাদা হয়ে আছে। পরে দেখি কাদা না ঢালাই করা হয়েছে। বাধ্য হয়ে তার উপর দিয়েই ভ্যান গাড়িযোগে পেঁয়াজ নিয়ে গেলাম।
তিনি আরও বলেন, এ ঢালাই কাজ যদি বৃহস্পতিবার হতো তাহলে এমন হতো না। তারা তাদের ইচ্ছে মতো কাজ করায় এক দিকে যেমন সড়কের ক্ষতি অন্যদিকে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হল। এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
দুর্গাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মাসুক-ই মোহাম্মদ বলেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আরসিসি ঢালাই কাজ শেষে ২৮ দিন পরে তারা আমাদের কাজ বুঝিয়ে দেবে। ঢালাই কাজে যদি কোনো সমস্যা বা অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে আমরা নিয়ম অনুসারে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
নয়া শতাব্দী/এসএ
মন্তব্য করুন
আমার এলাকার সংবাদ