ময়মনসিংহের ভালুকায় মশার কয়েল থেকে ছড়ানো আগুনে ঘুমন্ত অবস্থায় মায়ের সাথে দগ্ধ হয় ছয় বছরের শিশু জাফরা ও আটমাস বয়সী ছেলে মায়ান। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ণ ইন্সটিটিউট ও প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এর শিশু জাফরা (৬) ও আট মাস বয়সী ছেলে মায়াননের চার পা হাটু পর্যন্ত কেটে ফেল। পরে পনের দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (২৪ ডিসেম্বর) ভোর ৪টায় মারা যায় জাফরা।
অপরদিকে উনিশ দিন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থেকে মৃত্যুর কাছে পরাজি হলো আট মাসের শিশু মায়ানও। চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২৯ ডিসেম্বর) শুক্রবার রাতে মারা যায় মায়ান। শিশুদের বাবা রবিন মিয়া মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেন। এর আগে গত ৯ ডিসেম্বর অগ্নিদগ্ধের ঘটনা ঘটে ।
জানা যায়, ভালুকা খাদ্য গুদামের নিরাপত্তা প্রহরী গফরগাঁও উপজেলার মশাখালি গ্রামের রবিন মিয়া স্ত্রী মনি আক্তার (৩০), মেয়ে জাফরা (৬) ও আট মাস বয়সী ছেলে মায়ানকে নিয়ে ভালুকা পৌর সভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল ফজল সাত্তারের বাসায় ভাড়ায় বসবাস করেন। নিত্যদিনের ন্যায় শনিবার (৯ ডিসেম্বর) রাতেও কক্ষে কয়েল জ্বালিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন মনি আক্তার। ওই সময় রবিন মিয়া বাসায় ছিলেন না।
এদিকে, রোববার (১০ ডিসেম্বর) ভোরে রবিনের ভাড়া বাসা থেকে চিৎকারের আওয়াজ শুনে প্রতিবেশিরা ছুটে এসে একটি কক্ষে আগুন জ্বলতে দেখে অগ্নিদগ্ধ দুই শিশুসহ মা মনি আক্তারকে উদ্ধার করে। পরে, ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দগ্ধদের ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে, দগ্ধদের অবস্থা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ণ ইন্সটিটিউট ও প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতালে পাঠানো হলে পরদিন ১০ ডিসেম্বর সকালে দগ্ধ জাফরা ও মায়ানের চার পা হাঁটু পর্যন্ত কেটে ফেলা হয়।
নয়াশতাব্দী/জেডএম
মন্তব্য করুন
আমার এলাকার সংবাদ